নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা প্রবেশের দীর্ঘ আট বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে বাস করছে অন্তত ১৩ লাখ রোহিঙ্গা। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় নানা দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। বেড়েছে অপরাধের পরিমাণ। প্রায়শই ঘটছে গুম-খুনের মত নানা ঘটনা।
কক্সবাজার উখিয়ার সবচেয়ে আলোচিত গ্রামের নাম কুতুপালং। যতদূর দৃষ্টি যায় চোখে পড়ে ক্যাম্প আর ক্যাম্প। যা বিশ্বের সব চয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প হিসাবে পরিচিত। উখিয়া ও টেকনাফে বাস করছে স্থানীয় অন্তত পাঁচ লাখ জনগোষ্ঠী। তবে প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার থেকে আসা ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
এদিকে, ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পাশাপাশি বেড়েছে খুন-গুম ও অপহরণের মতো ঘটনা। কদিন আগে কুতুপালং বাজার থেকে অপহরণ করা হয় ১৫ বছরের এক কিশোরকে। সন্ত্রাসী কায়দায় মারধর করে পরিবারের কাছে চাওয়া হয় মুক্তিপণ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রোহিঙ্গাদের চাপের কারণে পচা নালায় পরিণত হয়েছে চাষাবাদের জমি। দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা না করা হলে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়বে এখনকার সার্বিক পরিবেশ, এমন অশঙ্কায় দিন পাড় করছে স্থানীয়রা। এদিকে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল বাড়াতে এবং তাদের ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে ৩ দিনব্যাপী ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ। সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রোহিঙ্গাবিষয়ক কয়েক আন্তর্জাতিক দূত, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
Leave a Reply